যিল হজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনে যা করণীয়


লেখক: শাইখ সাইফুল ইসলাম মাদানী

ইতি পূর্বের আলোচনা থেকে আমারা জানতে পেরেছি যে, যিল হজ্জ মাসের প্রথম দশকের দিনগুলি খুব মর্যাদাপূর্ণ এবং সেই দিনগুলির সৎ আমলগুলোও আল্লাহর নিকট খুব পছন্দনীয়। ফলে এ পর্যায়ে আমরা জানার চেষ্টা করব; কি কি বিশেষ আমল এই দিনগুলিতে আমরা করতে পারি।

সংক্ষেপে পছন্দনীয় কিছু আমলঃ

১. তাওবা করা এবং সকল পাপ ও গুণাহের কাজ থেকে বিরত থাকা।

প্রকৃত একজন মুসলমানের খাঁটিভাবে তাওবার মাধ্যমে কল্যাণময় এই মৌসূমকে অভ্যর্থনা জানানো উচিৎ। কারণ দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ থেকে মানুষ বঞ্চিত হয় তার যে কোন পাপের কারণে। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ

وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُوعَنْ كَثِيرٍ

অর্থাৎঃ তোমাদের উপর যে বিপদই উপনীত হয় তা তোমাদের হাতের উপার্জনের কারণেই, তিনি অনেক অপরাধই ক্ষমা করে দেন।(সূরা শূরাঃ৩০)
সুতরাং অন্তরের জন্য পাপের প্রভাব খুবই বিপদজনক, যেমন বিষ শরীরের জন্য ক্ষতিকর। আর তাই তা শরীর থেকে বের করে দেয়া অনিবার্য। তেমনি পাপও অন্তরের উপর পরিপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। ফলে খাঁটি তাওবার মাধ্যমে তা থেকে মুক্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরী।

আসুন ! আমরা খাঁটি ভাবে তাওবা করি এবং সকল পাপাচার থেকে বিরত থাকি, আর বেশি বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আল্লাহর যিকিরে মাশগুল থাকি।

২. সাধারণভাবে সব ধরণের সৎ আমল বেশি বেশি করা।

কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ   জিল হজ্জ্বের এই প্রথম দশকের চাইতে উত্তম এমন কোন দিন নেই, যে দিনগুলোর সৎ  আমল আল্লাহ্‌র নিকট অধিক পছন্দনীয়। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন: হে আল্লাহ্‌র  রাসূল ! আল্লাহর  পথে জিহাদও কি নয়  ? তিনি বললেন: আল্লাহ্‌র পথে জিহাদও নয়।  তবে হ্যাঁ সেই মুজাহিদ ব্যক্তির কথা ভিন্ন, যে স্বীয় জান-মাল নিয়ে জিহাদে বেরিয়ে পড়ে আর উহার কিছুই নিয়ে প্রত্যাবর্তন করে না।  (বুখারী, অনুচ্ছেদ: আইয়ামে তাশরীকের দিন গুলোতে আমল করার ফযীলত)

যেমন ধরুন; কুরআন তিলাওয়াত, বেশি বেশি সাদকা বা দান খয়রাত, ফকির- মিসকিনদের জন্য ব্যয় করা, সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করা ইত্যাদি।

৩. সালাত আদায়।

কারণ সালাত আদায় না করলে অন্য কোন ইবাদতই আল্লাহর নিকট কবুল হবে না। আর ইচ্ছাকৃত সালাত পরিত্যাগকারী কাফের। সুতরাং জামাআতের সাথে সালাত আদায়ের জন্য তাড়াতাড়ি মসজিদে যাওয়া এবং প্রথম কাতারে শামিল হওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করা ও বেশি বেশি নফল পড়া মুস্তাহাব। বরং নফল সলাত আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সর্বোত্তম মাধ্যম। সাওবান রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেনঃ তুমি বেশি বেশি আল্লাহর সিজদা করবে, কারণ তুমি যদি আল্লাহকে একবার সিজদা কর তাহলে তিনি এর বিনিময়ে তোমার একটি সম্মান বৃদ্ধি করবেন এবং একটি পাপ মোচন করে দেবেন। (সহীহ মুসলিম)

আর এটা সকল সময়ের জন্যই প্রযোজ্য।

৪. সাওম বা রোযা। 

এটা কয়েক প্রকার;

এক. এক থেকে নয় দিন বা দশ দিন পর্যন্ত রোযাঃ

হুনায়দা বিন খালেদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কোন এক স্ত্রী হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যিল হজ্জ মাসের নয়টি, আশূরার একটি এবং প্রত্যেক মাসে তিনটি রোযা রাখতেন। (মুসনাদে আহমাদ, আবু দাউদ ও নাসাঈ)

হাফসা রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ চারটি জিনিস যা কখনও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরিত্যাগ করেননি, সেগুলি হল; আশুরার রোযা, (যিল হজ্জ মাসের প্রথম) দশ দিনের রোযা, প্রত্যেক মাসের তিনটি রোযা এবং ফজরের পূর্বের দুই রাকাআত সুন্নাত। (মুসনাদে আহমাদ, আবু দাউদ)

(উল্লেখ্য যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন কোন কিছু পানাহার করে ঈদগাহে যেতেন, পক্ষান্তরে ঈদুল আযহা তথা কুরবানীর ঈদে কোন কিছু পানাহার না করে ঈদগাহে যেতেন, তারপর ঈদের সালাত শেষ করে, নিজ হাতে কুরবানী করার পর কুরবানীর গোস্ত খেতেন। যার কারণে কেউ কেউ এই ঈদের দিনে অর্ধদিবসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পানাহার না করার কারণে, অর্ধদিবসকে পূর্ণ একদিন রোযা হিসেবে গণনা করে দশ দিন উল্লেখ করেছেন। আর যারা ঈদের দিনের এই অর্ধদিবসকে রোযা হিসেবে গণনা করেননি তাঁরা নয় দিন উল্লেখ করেছেন। কারণ দুই ঈদের দিন রোযা রাখা হারাম।)

দুই. যে কোন একদিন রোযা রাখাঃ

আবু সাঈদ খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ যে বান্দা আল্লাহর রাস্তায় একদিন মাত্র রোযা রাখবে সেই বান্দাকে আল্লাহ তায়ালা ঐ দিনের রোযার বিনিময়ে জাহান্নাম থেকে সত্তর বছরের পথ পরিমাণ দূরুত্বে রাখবেন। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)

তিন. শুধুমাত্র আরাফাতের দিনের রোযাঃ

আবু কাতাদা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আরাফার দিনে রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ উক্ত রোযা, গত এক বছরের এবং আগামী এক বছরের কৃত পাপরাশিকে মোচন করে দেয়। (সহীহ মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ)

আর সাহল বিন সাদ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি আরাফার দিনে রোযা রাখে তার উপর্যুপরি দুই বৎসরের পাপরাশি মাফ হয়ে যায়।( সহীহ তারগীব ও আবু ইয়ালা)

সুতরাং এই দিনগুলিতে তিনভাবে রোযা পালন করা যায়, ১. প্রথম যিল হজ্জ হতে নয়ই যিল হজ্জ পর্যন্ত নয় দিন। ২. যে কোন একদিন। অথবা ৩. শুধুমাত্র আরাফার দিন।

যিল হজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের রোযা সম্পর্কে ইমাম নববী রাহিমাহুল্লাহ বলেনঃ এই রোযাগুলি নিশ্চিত মুস্তাহাব, বিশেষ করে আরাফার রোযা। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যিল হজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের মধ্য থেকে আরাফার দিনের রোযার প্রতি  বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন এবং (আলাদাভাবে) এই দিনের রোযার ফযিলত বর্ণনা করে ইরশাদ করেনঃ আরাফার দিনের রোযা, আমি আল্লাহর নিকট আশা পোষণ করছি, তিনি এর বিনিময়ে গত এক বছরের এবং আগামী এক বছরের কৃত পাপরাশিকে মোচন করে দেবেন।(সহীহ মুসলিম)

৫. হজ্জ ও ওমরা আদায়।

আবু হুরাইরা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট শুনেছি, তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে হজ্জ করতে যায় ও তাতে কোন প্রকারের যৌনাচার ও পাপচরণ করে না, সে ব্যক্তি সেই দিনকার মত নিষ্পাপ হয়ে বাড়ি ফিরে আসে যেদিন তার মা তাকে ভূমিষ্ট করেছিল।(সহীহ বুখারী ও মুসলিম)

আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ তোমরা হজ্জকে ওমরা ও ওমরাকে হজ্জের অনুগামী কর। (অর্থাৎ হজ্জ করলে ওমরা ও ওমরা করলে হজ্জ কর) কারণ, হজ্জ ও ওমরাহ উভয়েই দারিদ্র ও পাপরাশিকে সেইরূপে দূরীভূত করে যেরূপ (কামারের) হাপর লোহার ময়লাকে দূরীভূত করে ফেলে। (সহীহ নাসাঈ)

আবু হুরাইরা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ এক ওমরা থেকে অপর ওমরা পর্যন্ত সময়ে সংঘটিত পাপরাশির কাফ্ফারাহ। আর মাক্ববুল (গৃহীত) হজ্জের বিনিময় একমাত্র জান্নাত। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেনঃ কিয়ামত পর্যন্ত ওমরা হজ্জের মধ্যে প্রবেশ করেছে। অর্থাৎ হজ্জের মধ্যেও ওমরা রয়েছে, আর এটা সব সময়।

৬. তাকবীর, তাহলীল ও তাহমীদ পাঠ করা।

ঈদুল আযহার তাকবীর পাঠ করার সময় দুই ভাগে বিভক্ত;

এক . মুতলাক বা সর্বসময়  অর্থাৎ যিল হজ্জ মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার পর থেকে আরম্ভ করে আইয়্যামে তাশরীক তথা ১৩ই যিল হজ্জের সূর্য্য ডুবা পর্যন্ত সব সময়।

দুই. মুকায়য়্যিদ বা নির্দিষ্টযুক্ত সময় আর এটা হল; শুধুমাত্র ফরজ নামাযের পর পর। অর্থাৎ আরাফার দিন ফজরের ফরয নামাযের পর থেকে আরম্ভ করে আইয়্যামে তাশরীক তথা ১৩ই যিল হজ্জের আসরের নামায পর্যন্ত প্রত্যেক নামাযের পরপর তা পাঠ করা।

তাকবীরের শব্দাবলীঃ

১. আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার কাবীরা।

২. আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার,  আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।( মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, ইরওয়াউল গালীল)

৩. আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ, আল্লাহু আকবার ওয়া আজাল, আল্লাহু আকবার আলা মা হাদানা। ( বায়হাকী ও ইরওয়াউল গালীল)

ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ বলেনঃ আব্দুল্লাহ বিন ওমার ও আবু হুরাইরা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা যিল হজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনে বাজারে গেলে তাকবীর পাঠ করতেন, ফলে (তাদের তাকবীর ধ্বনি শুনে) বাজারের মানুষেরাও তাদের সাথে তাকবীর পাঠ করতেন।

তিনি আরও বলেনঃ ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু ঐ দিনগুলিতে মিনাতে তাঁর তাঁবুর ভিতর তাকবীর পাঠ করতেন, ফলে তাঁর তাকবীর ধ্বনি মসজিদের সবাই শুনতে পেতেন এবং তারাও তাকবীর পাঠ করতেন। আর তখন বাজরের সবাই এমনভাবে তাকবীর পাঠ করা আরম্ভ করতেন যে সমস্ত মিনা তাকবীর ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠতো।

আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা ঐ দিনগুলিতে মিনাতে সব সময় তাকবীর পাঠ করতেন। এমনকি ফরয নামাজের পরে, বিছানাতে, তাঁবুতে, আসনে এবং পথ চলার সময়ও তাকবীর পাঠ করতেন।

তাকবীর পাঠ করার ক্ষেত্রে মুস্তাহাব নিয়ম হচ্ছে;

পুরুষেরা তাকবীর পাঠ করবে উচ্চ আওয়াজে, যেমনটি ওমর, আব্দুল্লাহ বিন ওমর এবং আবু হুরাইরা রাযিয়াল্লাহু আনহুম করতেন। আর মহিলারা আস্তে আস্তে তথা নীচু আওয়াজে তাকবীর পাঠ করবে। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে মহিলারাও তাকবীর পাঠ করতেন। উম্মে আতিয়্যা রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন যে, আমরা যেন ঋতুবতী মহিলাদেরকেও উভয় ঈদে ঈদগাহে নিয়ে যায়। তবে তারা নামাযের স্থান থেকে দূরে থাকবে (নামাযে শরীক হবে না ) । কিন্তু তারা অন্যান্য মঙ্গল ও মুসলিমদের দুআয় শরীক হবে। তারা পুরুষদের পিছনে অবস্থান করবে এবং পুরুষদের সাথে তারাও তাকবীর পাঠ করবে। (সহীহ বুখারী:৩২৪ ও ৯৭৪ এবং সহীহ মুসলিম: ৮৯০ নং পৃষ্ঠা)

৭. যারা কুরবানী করবে তাদের চুল, নখ ইত্যাদি না কাটা।

যারা কুরবানী করার ইচ্ছা পোষণ করবে তাদের জন্য যিল হজ্জের চাঁদ উদিত হওয়ার পর হতে কুরবানী করা পর্যন্ত মাথার চুল কাটা, শরীরের লোম বা চামড়া উঠানো এবং হাত ও পায়ের নখ কাটা হারাম।

উম্মে সালমা রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ যখন তোমরা যিল হজ্জ মাসের চাঁদ দেখবে এবং তোমাদের কেউ কুরবানী করার ইচ্ছা করবে, সে যেন কুরবানীর পশু যবাই করার পূর্বে তার মাথার চুল ও হাত পায়ের নখ কাটা থেকে বিরত থাকে। (সহীহ মুসলিম ও আহমাদ)

এই বিধান শুধুমাত্র যিনি কুরবানী করবেন তার জন্য, পরিবারের সকলের জন্য নয়, অর্থাৎ যদি পরিবারের সকলের কুরবানী একটি হয়, তাহলে পরিবারের যিনি প্রধান কর্তা তিনি এগুলো থেকে বিরত থাকবেন। স্ত্রী, সন্তানদের জন্য হারাম নয়। কিন্তু তারা যদি আলাদা কুরবানী দেয় তাহলে তাদের জন্যও তা হারাম।

কেউ যদি ইচ্ছাকৃত ভাবে চুল ও নখ কাটে, তাহলে সে গুণাহগার হবে, তবে কোন কাফ্ফারা দিতে হবে না, তার জন্য তাওবাই যথেষ্ট। তাকে তাওবা করতে হবে। আর যদি ভূলে অথবা না জেনে তা কাটে, তাহলে কোন গুণাহ হবে না। আবার কেউ যদি যিল হজ্জ মাসের প্রথমে কুরবানী করার ইচ্ছা না করে থাকে, তাহলেও তার জন্য এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। যখন থেকে নিয়ত করবে তখন থেকে তা হারাম । ফলে এর পূর্বে চুল ও নখ কাটলেও কোন কিছু হবে না।

৮. ঈদের সলাত আদায় করা।

ঈদের নামায দুই রাকাআত যা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। সাধারণত: এ নামায গ্রাম বা শহরের বাইরে আলাদা মাঠে (ঈদগাহে) আদায় করাই সুন্নাত। ইসলামে এ নামাযের সূচনা হয় হিজরী প্রথম সনে। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর জীবনে প্রত্যেক ঈদেই এ নামায আদায় করেছেন। এ নামাযের কোন আযান ও ইকামত নেই এবং এর আগে ও পরে কোন সুন্নাত নামাযও নেই।

এ নামাযের সময়ঃ

পূর্ব দিগন্তে সূর্য্য উঠার কিছুক্ষণ পর হতে (সূর্য্য উঠার ১৬-২০ মিনিট পর হতে) দ্বিপ্রহর পর্যন্ত।

শিশু ও মহিলাদের ঈদগাহে যাওয়াঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুরুষ ও মহিলা সকলকেই এ নামায আদায় করার জন্য ঈদগাহে বের হতে আদেশ করেছেন।(ফিকহুস সুন্নাহ:১/২৭৭)

আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ কন্যা ও স্ত্রীদেরকে উভয় ঈদে ঈদগাহে বের হতে আদেশ দিতেন।( আহমাদ, মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, সহীহুল জামেইস সগীর ও সিলসিলাহ সহীহাহ)

উম্মে আতিয়্যা রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন যে, আমরা যেন ঋতুবতী মহিলাদেরকেও উভয় ঈদে ঈদগাহে নিয়ে যায়। তবে তারা নামাযের স্থান থেকে দূরে থাকবে (নামাযে শরীক হবে না ) কিন্তু তারা অন্যান্য মঙ্গল ও মদুআয় শরীক হবে। তারা পুরুষদের পিছনে অবস্থান করবে এবং পুরুষদের সাথে তারাও তাকবীর পাঠ করবে। তিনি বলেন, আমি বললাম; হে আল্লাহর রাসূল! আমাদেও কারো কারো চাদর না থাকলে? উত্তরে তিনি বললেনঃ তার কোন বোন তাকে নিজ চাদর পরতে দেবে। (সহীহ বুখারী:৩২৪ ও ৯৭৪ এবং সহীহ মুসলিম: ৮৯০ নং পৃষ্ঠা)

৯. কুরবানী করা।

প্রত্যেক সামর্থবান মুসলমানের কুরবানী করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ

فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ

অর্থাৎঃ অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সলাত আদায় কর এবং কুরবানী কর। (সূরা কাউসার:২)

তিনি আরও ইরশাদ করেনঃ

وَالْبُدْنَ جَعَلْنَاهَا لَكُمْ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ

অর্থাৎঃ আর (কুরবানীর) উটগুলোকে আমি করেছি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। (সূরা হাজ্জ: ৩৬)

সামর্থ থাকা সত্বেও কুরবানী না করা মাকরুহ।

কুরবানী করার সময়ঃ

নিজ নিজ এলাকার ঈদের নামায সমাপ্ত হওয়ার পর হতে আইয়্যামে তাশরীক তথা ১৩ তারিখ সূর্য্য ডুবা পর্যন্ত। অর্থাৎ ঈদের দিন সহ মোট চার দিন।

কুরবানীর পশু ও বয়সঃ

কুরবানীর পশু চার প্রকার;

১. উট  পাঁচ বৎসর পূর্ণ হওয়া।

২. গরু দুই বৎসর পূর্ণ হওয়া।

৩. ছাগল এক বৎসর পূর্ণ হওয়া।

৪. ভেড়া ও দুম্বা ৬ মাস পূর্ণ হওয়া।

একটি পরিবারের পক্ষ হতে একটি ছাগল বা দুম্বা কুরবানী করা যথেষ্ট। আর গরু ও উটে সাত ভাগ (শরীকানা) জায়েয। তবে তাতে বিভিন্ন সংশয় ও মতানৈক্য থাকার কারণে পারত পক্ষে বেঁচে থাকা উত্তম। তবে অবশ্যই জায়েয।

নিজ হাতে কুরবানীর পশু জবাই করা মুস্তাহাব। এবং কুরবানীর পশু স্পষ্ট দোষ ত্রুটি থেকে মুক্ত হওয়াও বাঞ্ছনীয়।

উৎস : https://msmadani1.wordpress.com

নোটিশ বোর্ড

নিউজলেটারের জন্য নতুন নিবন্ধন করুন

Flag Counter